কবিতা
-
কবিতার মুহূর্ত
বাড়ি ছিল মধুপুর গিরিডির কোন্ খনি আর জঙ্গলের ধারে ছোট্ট ঝোরা পাথুরে পথে ঘোরা খানিক গান অনেক কথার মাঝে বদলে গেল জীবন-পাঠ চমকে উঠে সরিয়ে দিলাম বইয়ের পাহাড় ডুব দিলাম ওই গভীর গিরিখাতে উপত্যকায় নদীর গভীর জলে চুপচাপ রাতে ঘুম নেই পাতায় আঁকিবুকি কলম টেনে আঁচড় কাটা সেও রইল বাকি একটাই সুর একটাই তান মুহূর্তটাই…
-
ফিরে যাচ্ছি
আমি আমার স্কুলের রাস্তাটি দেখতে পাচ্ছি হাতে বইখাতা জ্যামিতি বক্স পরনে হাফ প্যান্ট সাদা শার্ট স্যান্ডেল পায়ে হেঁটে-যাওয়া এক কিশোরকে দেখতে পাচ্ছি সারি সারি বেঞ্চ ব্ল্যাকবোর্ড হাতে চকের গুঁড়ো আমি পরিষ্কার করছি হাত টিউবওয়েলের পানিতে! আমি নিজামভাইকে দেখতে পাচ্ছি আমি খাড়া রেখেছি কান ঘণ্টা শোনার আশায়! স্কুলের মাঠে উড়ছে ফড়িং কিছু আমি একটা ফড়িংয়ের পেছনে…
-
বিনাশ
বিনাশের সপক্ষে এভাবে দাঁড়ালে সুদূর জগৎও ডাকিনীর মোহে ক্লেদ ও আগুনে বিলীন হতে থাকে। স্মৃতিরা আবার স্বপ্নময় দিনগুলির কাছে ফিরে যেতে চায়। বর্ণ গন্ধ জল দীর্ণ করে তোলে নাভিমূল চিবুকের রেখা বরাবর দৃশ্যায়নের মদিরা দ্বিধা ও সংকোচের মুখোমুখি নীলিমায় নীল হতে হতে ক্ষয়িষ্ণু স্বপ্নের ভেতরে হাঁটু মুড়ে বসে। সংশয় ও যাতনা বিহ্বলতায় প্রতীক্ষার ভেতর দিয়ে…
-
প্রিয় ব্যালকনি
ওই ব্যালকনি এখনো আমায় ডাকে রাগ, অনুরাগ, অভিমান, বিরহ কত প্রণয় রেখেছি তুলে মন উচাটন সন্ধ্যাগুলো ভালোবাসায় হয়েছে সুদীর্ঘ রাত আমাদের করতলে। ভালোবাসার বিমূর্ত আবেশে জড়িয়ে আছো হৃদয় অরণ্যভূমি তোমার আগমন আয়োজনে আলো-আঁধারির ধোঁয়াশায় কেটে গেছে কত বসন্তের রাত সঙ্গী হয়েছিল জল আর জোছনার গান। কাচের দেয়ালের মতো ভেঙে গেছে সময় মহাকাল নীরবে দোলা…
-
সুষুম্নার গাছ
১ স্বরলিপির খোলা হাটে বসিয়ে দিচ্ছি আলটপকা সবুজ সার্কাসের মাঠ; মিশে যাচ্ছে হাসি-হাহাকার কী অন্তহীন বেগুনি কচুরিপানার দেশে বউপাখি কথা কও কথা কও আমাদের ঘরের ভেতর ইঁদুর ঢুকেছে ভিটেমাটি কেটেকুটে খায়, এমনকি আকাশের সিঁড়ি এমনকি আমাদের দাঁত সব ইঁদুরের দাঁত কী রক্ত কী রক্ত চিৎকার করে ওঠে সফেদ চাদর ‘তুই থুলি মুই থুলি’ ঝগড়ায় মেতেছে…
-
অলৌকিক বিষণ্নতা
এ-শহরে রোদ্দুর মিলিয়ে যাবার কালে – এক অলৌকিক বিষণ্নতা গলে পড়ে, অন্তহীন নিঃসঙ্গতার গহিনের জালে – পথ-হারানো বিকেল মুখ লুকায় অভিমানের আড়ালে; এ-শহরে মানুষ চোখ মোছে ভ্রাম্যমাণ হৃদয়ের গনগনে চুম্বনে, প্রেম বিসর্জন দেয় সন্ধ্যার আলিঙ্গনে সামাজিক প্রয়োজনে – অনুগত জীবনের লোভে হৃদয়ের কল্পিত মগজে, কাটাকুটি খেলে যায় পুঁজিবাদী সুখের কাগজে – এই শহরে বুনো ফুলে…
-
দ্বি-জাতিতত্ত্বের ট্রেন
পার্টিশন শব্দটা কানে আসতেই লাল সাইরেন বেজে উঠলো মগজে। দেশ হারালাম, পতাকা কেড়ে নিল, অতঃপর ট্রেন চলছে। লগবুকে সই করে শরণার্থী হলাম। এখন মুখ চুন করে বসে থাকি শিয়ালদা স্টেশনে। ভিটেমাটি হাতবদল হলো। রাতে ঘুমাতে পারি না, চোখ বুজলেই মা ডাক দেয়! জ্বলে ওঠে তুলসীতলার প্রদীপ, বাড়ির পাশের কুমার নদ, আটাডাঙ্গার বাঁওড়। কাঁচা শৈশবের মতো…
-
আমাদের ধানজন্ম
আমার ভেতরে আমি বুনেছি আউশ ধান প্রেম, তুমি খুঁজে পেলে ইতিহাসের ঘ্রাণ ইরি’রা বাহিরে করছে কোলাহল, আর বেঁচে যাওয়ার পূর্বে করি আত্মচিৎকার যদিও, ছেড়ে যায় পাখি, দূরে যায় প্রিয়জন বাজারে বিক্রি হয় সব তার – হাইব্রিড মন পাখির ঠোঁটে ধান, আদতে লাশ, অশ্রু বর্ধিত; অশ্রুতে ডুবে গিয়ে ভেসে ওঠা – আসলে আমরা মৃত এবং দীর্ঘ…
-
প্রিয়তম পৃথিবী আমার
গাছেরা মেতেছে খুব নান্দনিক নাচে অবেলার এই অকাল বসন্তে এবার, গাঢ় নীল আকাশের তলে পাতারাও নামিয়েছে সবুজের অঢেল সুন্দর – দূর শৈশবের পরে বাহারি ফুলের দল ছত্রিশ রঙের আয়োজনে কখনো এমন মেতেছে বলে মনেও পড়ে না; ছায়াতলে শীর্ণ গাছেরাও যৌবনের নানারং ঘাগরা মেলে আমাকে বুঝিয়ে দিচ্ছে সেও ফেলনা কেউ নয়; অন্যদিকে মানবসংসারে আজ তীব্র হুলস্থূল…
-
নাগরিকপঞ্জি
যেন অকালদণ্ড দুলছে দোলনায় তীরে গাছগুলি ঝাপটায় ডানা উড়ন্ত কদম্বরেণু বাতাস উজাড় করে আঁখি তোমার ঢুলে আসে ঘুমে অলাতচক্রের মধ্যে ঝাঁপ দিলো কে? মহাদেশ মহাকাল ভেসে যায় ফুলগুলি ঝরে – শিউলি দোপাটি ব্যারিকেড পার হলে বিপুল আনন; চোখদুটি জ্বলজ্বল করে যেন অকালদণ্ড দুলছে দোলনায়!
-
লন্ডনের লিসা
বলবয় থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দুরূহ স্বপ্নের প্ররোচনা আমাকে কেবলই করেছে বিদীর্ণ। আশা ছিল সঠিক আঘাতে বার্ডি পেয়ে যাবো বারবার, কখনো হঠাৎ পাবো সোনালি ঈগল। স্বপ্নের ধূসর ছাইভস্ম মেখে কী অদ্ভুত চেহারা আমার! সোনালি ঈগল পাওয়ার আকাক্সক্ষা সুদূরপরাহত। কাঁটা ঝোপ, পানির পরিখা পার হয়ে বল আমার কেবলই হয় লক্ষচ্যুত বারবার আমার কপালে মিলে বগি, ভুল শুধরে…
-
সেতু
এ সেতু ভেঙো না এ সেতু সকাল-সন্ধ্যা সোনালি বাঁধন এ সেতু চিৎপ্রকর্ষের উৎকর্ষ সাধন। এ সেতু ভেঙো না এ সেতু স্বপ্ন প্রেম শৈলী শিল্প এ সেতু হৃদয়ের ইতিহাস রেনেসাঁ গল্প। এ সেতু ভেঙো না নিও না খুলে পাথর সুড়কি মেরো না গাইতি শাবল আঘাত করো না এর বুকে এ সেতু তোমার আমার…
