কবিতা
-
পথে পথে ভুল
পথে পথে কত ভুল হলো ভুল হলে ফুলের গন্ধও কমে যায় তখন নতুন দিন পুরনোর মতো মনে হয় বিষণ্ন বিকেলে তাই পরিশুদ্ধ হতে গিয়ে ভুলের তালিকা আরো দীর্ঘ হয়ে যায় কখনো কখনো তাই জিগীষার ডানাগুলো চমকে দিয়ে নিজেকেই প্রশ্ন করে ওঠে কাকে বলে শুদ্ধাচার, পরিশুদ্ধ কার অবয়বে? উত্তর খুঁজতে গিয়ে মনে হলো নেই, তবে ছিল…
-
রঁদেভু
অজ্ঞাতবাসের কালে ছদ্মবেশী পাণ্ডবের দল শমীবৃক্ষোপরে, এর গভীর খোঁড়লে যে-রকম সকলের অগোচরে গাণ্ডীব কবচ শঙ্খ আর পরিপূর্ণ শরে-ঠাসা দিব্য-যুগ্ম তূণ রেখেছিল সেভাবে আমিও বহু হরষিত গোপন আয়ুধ (বিলোল কটাক্ষসহ, ভ্রু-জোড়ার আমন্ত্রণসহ) তোমার আতপ্ত মর্মে, মধুকূপে লুকিয়ে রেখেছি; পারদের নদীপথে ভাসে তরী। অর্চনা-আরতি আমাদের এ-রভস জমেছিল পিংক রঁদেভুতে; চুমুর পরাগ-রাঙা শহরের মেট্রোর দেয়াল! পোশাকের পাপ মুছে…
-
শীতব্যাধি
যে-জলবতী নিশিপদ্ম ভালোবেসে ফেরেনি শীত-বিকেলের বৈভব নিয়ে ফেরার সৌন্দর্য যেন আমার কৌমার্য খাঁড়ির নিঃসঙ্গ শিশির ওখানে প্রতীক্ষায় আছে নির্ভরতার অসুখ এখনো সঞ্চিত রেখেছি সেখানে শীতের ব্যাধিজল ব্যাধির মতো বহু-উচ্চারিত শব্দ নিয়ে কুয়াশা-যুবতী তার একান্ত গোপন ইচ্ছে লুকিয়ে অপেক্ষায় মেলেছে বিষাদের আমন্ত্রণপথ ইচ্ছের কী আসে-যায় যদি মন্ত্রের শয্যায় আলোড়িত না হয় যৌথ শীৎকার পৌষের আনতমুখে স্থির…
-
ডায়োজেনিসের লণ্ঠন
আজব এক লণ্ঠন ঘুমায় রাতের বেলা জেগে ওঠে সূর্যের আলোয় আর ঘুরে বেড়ায় পৃথিবীময় মানুষের মুখের কাছে দাঁড়িয়ে কী যেন পরখ করে কেউ জিজ্ঞেস করলে বলে মানুষ খুঁজছি – পাগল দিনের বেলা কেউ লণ্ঠন জ্বালে এতো তেল আসে কোত্থেকে লণ্ঠন চলতে শুরু করে ব্রহ্মাণ্ড অবধি সকল দেয়াল ভেদ করে যায় প্রান্তবিন্দু লণ্ঠনের আঁচড়ে তৈরি হয়…
-
ধূপছায়া
এখানে শীত শেষে এসেছে উষ্ণতা ধূপছায়া সময় মেলেছে শতদল কখন ভালোবেসে লিখেছিলি কবিতা এখনো কথাকলি ভাবনা চঞ্চল আমি তো আমি নই তুই কি শুধু তুই প্রশ্নে নীরবতা উত্তর ধ্রুপদী খুলেছে ছিপি আজ চঞ্চল ঝরনা যদিও আমি নই মাতাল নিরবধি তাহলে কাকে বলে ভ্রমণ বল পাখি কখন ঢাকা এসে সিডনি খুঁজে পায় পাহাড় যদি দেয় মেঘের…
-
লগ্নভ্রষ্ট
কার মুখ চেয়ে সাজিয়ে রাখছো রুদ্ধ পুষ্পবাণ কার কাছে চাও শর্তমুক্ত ঠাঁই – সব জেনো মিছে, যদি জেনে থাকো শূন্য অভ্র, চারিপাশ ফাঁকা, প্রিয়জন পাশে নাই। কার বিপরীতে শাণিয়ে রাখছো ক্রুদ্ধ অগ্নিবাণ কার মুখে চাও কম্প্র নম্র চোখে – সব স’য়ে যাবে ঝড়-জল-খরা স্বর্ণকুম্ভ মাটি হয়ে যাবে, নিয়তি যদি না-রোখে। কার স্মৃতি পুষে বাসনা ভুলেছো,…
-
ভালোবাসার অনেক রং
সে আবেগ হাতের মুঠোয় রাখি। সে আবেগ তবু তোমার ঠিকানা খোঁজে। তুমি তখন পৌষের শীত। তুমি তখন মেঘলা দুপুর। আমি ছাদের দরোজা বন্ধ করার চেয়ে তোমার হাতটা ধরার জন্য ব্যস্ত ভীষণ। তুমি তবু হেসে কুটিকুটি। তুমি বলো – হবে না হবে না। তুমি বলো – অদিতি জেনে গেলে জাত যাবে, জাত। জাত যায় যাক। তবু…
-
দেহঘড়ি
মেঘের জামা পরে বিষণ্ন রোদ আসে পুবের জানালা খুলে করুণ ভায়োলিন বাতাসের মৌনতা ভাঙে শ্রাবণ রোদ্দুরে পথের দুধারে ঝুলে থাকা পাটের মতো শুভ্র চুলগুলো কাঁপে বাতাসের সংগীতে শেষ ট্রেনে বাড়ি যাবে জেনে মুহূর্তগুলো কাটে ভয় ও উৎকণ্ঠায় কেন নিঃশব্দে শূন্যতা বেড়ে ওঠে অপ্রাপ্তির শেকড় বিস্তৃত হয় সমস্ত সত্তা জুড়ে? তোমার উদ্যানে আজ বৃক্ষ শত-শত ফুল…
-
ক্ষণজন্মা
(কবি মাহমুদ আল জামানকে নিবেদিত) ক্ষণজন্মা ভোরে সহজ আলোর ভেতর দিয়ে যে যায় সে দীর্ঘ যায়। ধুধু মরুভূমি নিশ্চিত জেনেও উদাসীন দিন ও রাত্রির মর্মতলে স্মৃতিজাগানিয়া দৃশ্যসীমার ভেতরে শেষ ট্রেন ধরবে বলে যারা বনভূমি উজাড় করে মৃত্যু ডেকে আনে তারা কি শেষ পৃথিবীর যাত্রী? যারা পাথরে মুখ গুঁজে মৌন হয়ে আছে লাবণ্যহীন বিষণ্ন তারা হিংস্রতা…
-
সমান্তরাল দুটি রেখা
কে কার ক্ষমতা অবধি যায় কে ভেজায় পুরুষদণ্ডটি, পিছু হটে স্রোত দৌড়োয় পেছন দরজায় এমন পেছল পথে হাঁটে পরমাণু এমন আগলে রাখা গোপন কপাট সেলাইয়ের শেষে, মুখ টিপে হাসে শল্যকার লুকোনো করাত ছিল, আর ছিল প্লুত জলে ভেসে থাকা প্রশ্নগুলি অন্ধকারে তর্জনীর ত্রাস তহবিল তছরুপের দিনে সমস্ত আকাশ ক্ষৌরি করে উঠে আসে দলা দলা কফ…
-
সমান্তরাল দুটি রেখা পাশাপাশি শুয়ে থাকে চুপ কাটআউট
মাতিসের পেপার কাটিং জগদ্বিখ্যাত আসলে তা কাটআউট চিত্র এবং দ্বিমাত্রিক। কাগজ, বোর্ড বা ওই জাতীয় দ্বিমাত্রিক যে-কোনো মাধ্যম হতে পারে শিল্পীর আশ্রয় ‘এসেনশিয়াল ফর্ম’। একটি কাটআউট চিত্র তার মাধ্যম ও বর্ণসমূহ একটি পরিপূর্ণ পেইন্টিং তথাপি বিস্তর ফারাক। শিল্পের পরিসরে ভাবনার সঙ্গে মনের মিলন : কাটআউটের অপরিহার্য দৃশ্যরূপ।
-
তিনটি কবিতা
২৯শে ডিসেম্বর, ২০২২ কারো সঙ্গেই কথা বলার আগ্রহ নেই, যেন সবকিছুর শেষ ধাপে এসে গেছি। এখন চুপচাপ দেখে যাওয়া, শুনে যাওয়া। নেই, এখন আর কোনো দীর্ঘশ^াসও নেই। রক্তনদীর বয়ে চলা দেখি, গাছের পাতা থেকে টুপটাপ ঝরতে থাকে শীতের শিশির! আমরা মুক্তি চেয়েছিলাম, পরিণামে গনগনে আগুন খেয়ে মৌন সময় কাটাই। একদিকেই চলে গেছে সমস্ত পথ ৩০শে…
