স্মরণ
-

অপ্রকাশিত সাক্ষাৎকার : সফিউদ্দীন আহমেদ
(২৩শে জুন ১৯২২-২০শে মে ২০১২) সাক্ষাৎকার গ্রহণ : মতিন রায়হান প্রসঙ্গকথা সফিউদ্দীন আহমেদের জন্ম কলকাতার ভবানীপুরে। শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী এক সাক্ষাৎকারে তাঁর সম্পর্কে বলেছেন : ‘তাঁর পায়ের নিচে বসে ছবি আঁকা শিখেছি। তিনি আমাদের শিল্পকলার পুরোধা ব্যক্তি। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন গ্রামে জন্মেছেন, সফিউদ্দীন আহমেদ চিরকাল শহুরে মানুষ। তবু দুজনেরই একটি জায়গায় মিল ছিল, তা হলো …
-

বুদ্ধদেব বসুর কবিতা ও কাব্যচিন্তার মৌল সদৃশতা
বুদ্ধদেব বসুকে নিয়ে বাঙালি পাঠকের একটা বেশ বড়ো অংশের রয়েছে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, সমীহ। সেই অর্থে তাঁকে নিয়ে এখনো পর্যন্ত নেতিবাচক সমালোচনা খুব বেশি নেই। এর একটা কারণ হচ্ছে, বুদ্ধদেবের সাহিত্যচিন্তার মধ্যে রাজনীতির অংশটা তুলনামূলকভাবে কম; কখনো-কখনো নেই বলেই মনে হয়। ভাববাদী সমালোচনাকে তিনি একটি চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেতে সমর্থ হয়েছিলেন, সেটিকে একটি স্বীকৃত আকৃতি দিয়েছিলেন।…
-

অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক : জীবন ও কর্মসাধনা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে যে মধ্যবিত্ত শ্রেণিটির বিকাশ ঘটেছিল, তার প্রথম সারির একজন হলেন অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক। ১৯১২ সালে তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, দেশভাগ, ভাষা-আন্দোলন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের মতো ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। এই অঞ্চলের দুটি রাষ্ট্র সৃষ্টির পটভূমিকে তিনি অনেকটা স্বচক্ষে দেখে গেছেন।…
-

হারানো সিঁড়ির চাবির খোঁজে একটি সমাজের সাংস্কৃতিক জগতের রূপরেখা
আমাদের সাংস্কৃতিক জগতের ইতিহাস জানতে তেমন কোনো নির্দিষ্ট বই পাওয়া কঠিন; কিন্তু কিছু কিছু সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের নিজেদের জীবন নিয়ে যেসব রচনা রয়েছে তাতে আমাদের ইতিহাস অনেকটা জানতে সাহায্য করে। সংস্কৃতি বা সাংস্কৃতিক ইতিহাস রাজনীতির ইতিহাস বা অর্থনীতির ইতিহাসের মতোই ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাহলে কেন আমাদের সমাজের এই দিকটির ইতিহাস লেখায় আমাদের ইতিহাসবিদ বা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা…
-

হাসনাতমঙ্গল
বহুবার ভেবেছি, লিখতে বসবো – কিন্তু হয়ে ওঠেনি। আজও কি হবে? আমি তো এখনো বিশ্বাস করি না আবুল হাসনাত, আমাদের হাসনাতভাই আর নেই আমাদের মাঝে। ধানমণ্ডির ৫ নম্বর সড়ক, মেগাডোরি আর বেঙ্গল অফিসের দিকে তাকালে আমি তো শুধু দেখি হাসনাতভাইয়ের মুখ, কালি ও কলম-এর নতুন কোনো সংখ্যা বের হলেই তো দেখি হাসি-ভরা মুখের হাসনাতভাইকে। তিনি…
-

আবুল হাসনাত : কিছু ছিন্নভিন্ন অনুভব, তাঁর কবিতা ও স্মৃতিগ্রন্থ
ব্যক্তিগতভাবে লেখা ছাপানোর অনুমোদন আমি সম্পাদক আবুল হাসনাতের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ও ধারাবাহিকভাবে পেয়েছি, তা ভাবলে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ থাকে না। তিনি দৈনিক সংবাদের সাহিত্য সাময়িকী দীর্ঘ সময় ধরে সম্পাদনা করেন। তাঁর সম্পাদিত সংবাদ সাময়িকীতে আমার লেখা ছাপা হয়েছে ধারাবাহিকভাবে প্রায় ২০ বছর ধরে। ২০০৪ সাল থেকে আমৃত্যু তিনি সাহিত্যপত্রিকা কালি ও কলমের সম্পাদকের…
-

আবুল হাসনাতের আত্মজ্ঞান ও তাঁর অগ্রসরমানতা
সর্বজন শ্রদ্ধেয় শঙ্খ ঘোষের ‘নিরহং শিল্পী’ নামে একটি প্রবন্ধ আছে। সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘কত সময়েই আমাদের দেখতে হয় অযোগ্যের আস্ফালন! দেখতে হয়, শুনতে হয়, আর দেখতে দেখতে শুনতে শুনতে ক্লিষ্ট হতে থাকে মন।’ আবার এই দেখা আর শোনার বিপরীত চিত্রের কথা উল্লেখ করতেও শঙ্খ ঘোষ ভোলেননি। সে-কারণেই বলেছিলেন, ‘সামনে-দেখা অনেক বিনয়ছবিও কি ভেসে আসে না…
-

প্রত্যয়ী স্মৃতির সঞ্চয়
প্রবন্ধপাঠ যে একইসঙ্গে অনুভূতি ও মননকে যুগপৎ স্পর্শ করতে পারে ভাবনায়, লাবণ্যে ভরিয়ে দিতে পারে প্রাণ, তার দৃষ্টান্ত অন্তর্নিহিত রয়েছে আবুল হাসনাতের গদ্যে। জানার, বোঝার নানা স্তরিক সমাবেশে-স্বকীয় বিন্যাসরীতিতে বিনির্মিত এই গদ্যশৈলীতে মিশে রয়েছে কবিপ্রাণের আত্মিক ছোঁয়া। মাহমুদ আল জামান নামে যে তিনি কবিতাও রচনা করেন সেটি তখন বিশেষ তাৎপর্য পায়। চিন্তার ব্যাপ্তি আছে, গভীরতা…
-

রবিউল হুসাইন স্থপতি, কবি কিংবা একজন অনন্য মানুষ
জীবনে অনিন্দ্য কিছু সময় উপলব্ধি বা উপভোগ করতে হলে সে-ভালো লাগার সময়কাল খুব দীর্ঘ হয় না, বিধাতা হয়তো তা চান না। একটি পাহাড় চূড়াতে ওঠার পূর্বে যে উদ্দীপনা, আগ্রহ এবং একনিষ্ঠতা থাকে, পৌঁছানোর পরে তা ক্রমশ বিলীন হয়। তখন নিচে নামার জন্য সকল প্রচেষ্টা। হয়তোবা ভালো লাগার সময়কাল দীর্ঘ হলে তার মাঝে একটা ফাটল তৈরি…
-

ভরা থাক স্মৃতিসুধায় : ইব্রাহিম আলকাজি
ইব্রাহিম আলকাজি আধুনিক ভারতীয় থিয়েটারের স্থপতি। ভারতীয় থিয়েটারের প্রবাদপ্রতিম কিংবদন্তি পুরুষ, থিয়েটার প্রতিষ্ঠানের প্রধান পুরুষ – শিক্ষক, নির্দেশক, ডিজাইনার। ‘দিনের পরে দিন যে চলে যায়’ – সময় যে কারো জন্যে অপেক্ষা করে বসে থাকে না। পৃথিবীতে মাঝে মাঝে এমন কিছু মানুষ আসেন, যাঁরা শুধু মানুষকে দিয়েই যান। তাই তো রবীন্দ্রনাথের ভাষায় আমরা বলতে পারি, ‘তুমি…
-

দূরত্ব
আমরা একে অপরকে প্রায় আঠারোটা বছর ছেড়ে ছিলাম। সবমিলিয়ে আঠারোটা বছর। পঞ্চাশ বছরের দাম্পত্য জীবনের ভেতরে আঠারোটা বছর ছেড়ে থাকা বা দূরে থাকা তো একেবারে চাট্টিখানি কথা নয়। এখন ভাবলে অবাক লাগে, যে-মানুষটিকে বিয়ের আগে থেকেই একদণ্ড ছেড়ে থাকতে পারতাম না, তাঁকে কীভাবে আমি জীবিত থাকতে আঠারোটা বছর না দেখে ছিলাম? বা থাকতে পেরেছিলাম? এসব…
-

আমিনুল ইসলাম : কালদগ্ধ শিল্পপথিক
তর্কে নয়, আলাপে ছিল তাঁর স্বস্তি। আমরা যারা তাঁর সঙ্গে কথা বলতাম উদার প্রশ্রয়ে, কখনো মনে হয়নি তিনি নির্দেশ দিচ্ছেন, মেনে নিতে বলছেন তাঁর বক্তব্য। শিল্পী আমিনুল ইসলাম তাঁর আগের প্রজন্মের গুরুশিল্পী এবং তাঁর প্রজন্মের সতীর্থ থেকে শুরু করে সবার সঙ্গে এক সচ্ছল ভাবাবেগে কথা বলতেন, মতবিনিময় করতেন। আমরা যারা এখন ষাটোর্ধ্ব, আমাদের এই পৃথিবীতে…
