July 2021
-

রোবোটাব্দ
আমার সবচেয়ে পছন্দের সাহিত্য সম্পাদক যখন এলেন সেদিন, তখন আমি ঝগড়া করছি। সপ্তাহখানেক হলো খুব বেগোড়বাই করছে চাকরটা। খাচ্ছে, দাচ্ছে, ঘুমোচ্ছে – কিন্তু কাজ করছে না কোনো। কী কী সমস্যার কথা নাকি বলছিল কদিন ধরে, শুনিনি বলেই অসহযোগ। এখন আবার কুলুপ এঁটেছে মুখে; গণ্ডগোলটা কী, বলছেই না। হাসপাতালে নিয়ে যাব, সে-সামর্থ্যও আপাতত নেই। এমনিতে গাধাটা…
-

অমিল-অংক
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের বোয়িং ৭৪৭ বিমানটি প্রচণ্ড শব্দে আকাশে উড্ডয়ন করল! দুপুরের আকাশে খণ্ড খণ্ড সাদা মেঘ। রাশেদের মনে হলো, পিচঢালা সড়কপথের বেশ ভারী রোস্টার মেশিনটি তার বুক পিষে নিয়ে গেল! যে-যন্ত্রটির পেষণে প্রৌঢ় রাশেদ ক্ষত-বিক্ষত। যন্ত্রণায় হাত-পা অবশ হয়ে আসছে তার। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এক নম্বর টার্মিনাল ছেড়ে সে আস্তে আস্তে পা বাড়ায়। ঘর্মাক্ত…
-
অকস্মাৎ বৃষ্টিপাত
অকস্মাৎ বৃষ্টিপাত শাহবাগে তারুণ্যের ফুলের কোরকে অপূর্ব জোয়ার জীবন সায়াহ্নে আজ নেমে আসে চন্দনের গন্ধমুখরিত রাত ফিরে আসে অরণ্যহৃদয় সেই সাথে ফিরে আসে বিশাল বিপুল জল কলকল এক হারানো স্বদেশ। ২১/২/২০১৩
-
কতকগুলো দুপুর
কতকগুলো দুপুরের ভাষা আছে সুন্দর কতকগুলো দুপুরের জমে ওঠা সর তরতাজা সজীব কতকগুলো দুপুর আবার বড্ড বাজের বাজে কতকগুলো দুপুর এক্কেবারে যাচ্ছেতাই দাঁত বের করে হাসে ঠাঠা কতকগুলো সন্ত্রাসী দুপুর কোমরের ওই খাঁজে লুকিয়ে রাখে চকচকে পিস্তল কতকগুলো দুপুর আলসেমি করে শুধু পায়ে পায়ে ঠেস রাখে সারাটা সময় কতকগুলো দুপুর নিজেই আনমনা কি জানি কেন…
-
সপ্তপদী
১. দুই চাকাতে একটি গাড়ি চলে নড়ে বড়ে বৃষ্টি হয়ে মাটির পথ কাদায় যায় ভ’রে চলতে গিয়ে গতি অনেক শিথিল হয়ে পড়ে : তাই না দেখে গ্রামবালিকা হেসেই কুটিকুটি সেই হাসিতে ভড়কে গেলে বিভুল চোখ দুটি প্যাঁকের টানে আটকে চাকা কাদায় লুটোপুটি : চিৎপটাং! চিৎপটাং! হাসে বালিকা একা। ২. কাক ডাকে যে কা-কা ক’রেই, মোরগ…
-
কেউ জানে না
বৃষ্টি কেন হয়, বৃষ্টি কেন পড়ে কেন যে পাতা নড়ে মেঘের কাছে জানতে চাই তার বৃষ্টিকথা কী আছে বাকি আর গাছের কিছু বলার আছে বাকি হাওয়ার সাথে এতো যে মাখামাখি বৃষ্টি এলে বজ্র কেন বাজে মন লেগে যায় উদাস হওয়ার কাজে বাড়িগুলো আনন্দে স্নান সারে জানালা খোঁজে হারিয়েছিল যারে কেন যে মেঘ জলদি করে ডাকে…
-
ভোরের বিজ্ঞাপন
মুছে যায় পথের অক্ষর যা ছিল ভোরের বিজ্ঞাপনে বকুলগাছের নিচে ছায়ার ভ্রমণ ছিল দুপুরে চন্দ্রগ্রস্ত রাত্রিও ছিল ভিড় এড়িয়ে মুখোমুখি চোখের ভেতর-মাধুকরী ফুলের পাথর বৃষ্টির নিচে আগুন ছিল পুড়েছে রাতের দীর্ঘশ্বাসে মেঘের গোপন ডানা – ভোর-সন্ধ্যাবেলা শুধু পুড়ছে না তার হাসির ঘ্রাণ প্রফুল্ল ছায়ার শব্দ
-
কবিতার মুহূর্ত
বাড়ি ছিল মধুপুর গিরিডির কোন্ খনি আর জঙ্গলের ধারে ছোট্ট ঝোরা পাথুরে পথে ঘোরা খানিক গান অনেক কথার মাঝে বদলে গেল জীবন-পাঠ চমকে উঠে সরিয়ে দিলাম বইয়ের পাহাড় ডুব দিলাম ওই গভীর গিরিখাতে উপত্যকায় নদীর গভীর জলে চুপচাপ রাতে ঘুম নেই পাতায় আঁকিবুকি কলম টেনে আঁচড় কাটা সেও রইল বাকি একটাই সুর একটাই তান মুহূর্তটাই…
-
ফিরে যাচ্ছি
আমি আমার স্কুলের রাস্তাটি দেখতে পাচ্ছি হাতে বইখাতা জ্যামিতি বক্স পরনে হাফ প্যান্ট সাদা শার্ট স্যান্ডেল পায়ে হেঁটে-যাওয়া এক কিশোরকে দেখতে পাচ্ছি সারি সারি বেঞ্চ ব্ল্যাকবোর্ড হাতে চকের গুঁড়ো আমি পরিষ্কার করছি হাত টিউবওয়েলের পানিতে! আমি নিজামভাইকে দেখতে পাচ্ছি আমি খাড়া রেখেছি কান ঘণ্টা শোনার আশায়! স্কুলের মাঠে উড়ছে ফড়িং কিছু আমি একটা ফড়িংয়ের পেছনে…
-
বিনাশ
বিনাশের সপক্ষে এভাবে দাঁড়ালে সুদূর জগৎও ডাকিনীর মোহে ক্লেদ ও আগুনে বিলীন হতে থাকে। স্মৃতিরা আবার স্বপ্নময় দিনগুলির কাছে ফিরে যেতে চায়। বর্ণ গন্ধ জল দীর্ণ করে তোলে নাভিমূল চিবুকের রেখা বরাবর দৃশ্যায়নের মদিরা দ্বিধা ও সংকোচের মুখোমুখি নীলিমায় নীল হতে হতে ক্ষয়িষ্ণু স্বপ্নের ভেতরে হাঁটু মুড়ে বসে। সংশয় ও যাতনা বিহ্বলতায় প্রতীক্ষার ভেতর দিয়ে…
-
প্রিয় ব্যালকনি
ওই ব্যালকনি এখনো আমায় ডাকে রাগ, অনুরাগ, অভিমান, বিরহ কত প্রণয় রেখেছি তুলে মন উচাটন সন্ধ্যাগুলো ভালোবাসায় হয়েছে সুদীর্ঘ রাত আমাদের করতলে। ভালোবাসার বিমূর্ত আবেশে জড়িয়ে আছো হৃদয় অরণ্যভূমি তোমার আগমন আয়োজনে আলো-আঁধারির ধোঁয়াশায় কেটে গেছে কত বসন্তের রাত সঙ্গী হয়েছিল জল আর জোছনার গান। কাচের দেয়ালের মতো ভেঙে গেছে সময় মহাকাল নীরবে দোলা…
