2021
-

অকিঞ্চিতের ঈশ্বর
এ -গল্পে অপুই মারা গেল বর্ষার টইটম্বুর পুকুরে নাইতে গিয়ে। ওর নাম আসলে অপু ছিল না, ছিল শ্রীমান অতুল কুমার দত্ত। অতটুকু নাম অতুল, তাকে আরো ছোট করে অতু বলে ডাকতো সবাই। ওর বড় বোনের নাম দুর্গা বলে আমি অতু না ডেকে অপু ডাকতাম। ছ-সাত বছরের অপু আমার অনেক কাজে লাগতো। ‘অপু, বাবলা গাছের কাঁটাআলা…
-

ফিকে জোছনা কিংবা রংজ্বলা চাঁদ
বিয়েটা ভেঙে গেল তিন মাসের মাথায়। তিন মাস পুরোও হলো না মনে হয়। তবে এটি খুব বড় কোনো সংবাদ নয়। তেমন কেউ মনেও রাখেনি বিষয়টি। যারা আগ বাড়িয়ে এসব বিষয় ঘাঁটাঘাঁটি করে তারাও ক্রমশ থেমে গেল। আর কাঁহাতক! এমন তো হতেই পারে। হয়েই থাকে। পাচুলির নিজেরই ভরসা ছিল না। কেননা, এমন ঘটনা সে বহু দেখেছে।…
-
রজকিনি
মনটা যেদিন অধীর থাকে সেদিন আমি বসে থাকি রাজবাড়ির হাটবাজারে। হাটুরেরা চেনাজানা। হাজার কথার মধ্যিখানে হঠাৎ শুনি বায়স ডাকে। মনটি তখন ভাবতে থাকে অতীতকথা, তখন আমি ধুলোর ভিতর লিখতে থাকি মণিদীপা এখন কোথায়! এমনি করে কাটে আমার সারাবছর হাটবাজারে, মেঘের ছায়া হিংসা ভুলে দেখতো যদি আমার বাড়ি যে বাড়িটা বানিয়েছিলাম…
-
কতকগুলো দুপুর বিপুল আঁধারে একা
[কবি ফারুক মাহমুদ বন্ধুবরেষু] এক একটি কবিতা পড়ি কবিবন্ধুদের আর দেখি, বিপুল আঁধারে কতো যে জোনাকি জ্বলে, কতো কতো আলো চারদিকে বুকের ভেতর যেন বিষণ্ন দ্বীপের মতো জেগে ওঠে হাহাকার সময় অভাবহেতু পড়ার সময় হয় শুধু মধ্যরাতে শূন্যতা ছোবল মারে বিষাক্ত সাপের মতো, দেয়ালের টিকটিকি – মুখে পোকা – গিলে ফেলে চোখের পলকে … যেন…
-
বিরহের হাঁস
না চেয়েই কোনোকিছু যে তোমার ডানপাশে সারাপথ ছায়া হয়ে হাঁটে ভালোবাসার হিজাব-আবৃত হয়ে মনে রেখো তারে। না পেয়েই কোনোকিছু যে তোমার ভুলটাকে ফুল বলে লড়ে সব ঘাটে প্রেমের আলখেল্লা পরে একজীবন খুঁজিয়ো তাহারে। না ছুঁয়েই কোনোকিছু যে তোমার দুঃখরাতে হাত ধরে নিয়ে যায় চাঁদোয়াসড়কে বিরহের হাঁস হয়ে পাড়ি দিয়ো লক্ষ মাইল তাহারই অন্তরে। শূন্যহাতে রাজসিক…
-
আমার কবিতা হোক
আমি আর তোমার কাছে কোনো কবিতা পাঠাবো না হে বাতাস, তুমি আমার কবিতা উড়িয়ে নিয়ে যাও সাগরে কবিতা ভাঙতে থাকুক বরফ গুঁড়োর মতো ফেঁসো কি তুলোর মতো উড়তে থাকুক আমার কবিতা। আমার কবিতা হোক মৃৎশিল্পীর অব্যর্থ তুলি হোক শান্ত দিঘি, জল-থমথম হ্রদ, হোক উদ্ধৃত অন্ধকার আলো ফেলে যা অবিকল চিনে নিতে পারি। আমার কবিতা হোক…
-
কোথায় যে গ্যালো
কইছিলাম না তুমি পত হারাইবা? শ্যাষে ডাঙা না পাইয়া তুমি কই গ্যালা তন্নতন্ন কইরগা হারাডা জীবনভর খুঁজলাম কত! চেনাজানা যেহানে যেহানে ছিল, জিগাইছি কত কইছি দ্যাখতে ক্যামোন ছিল হরীতকী রং জামাটা তোমার গায়ে, শরীলডা নীল বেগুনী আভার মতো দ্যাখলেই বোঝা যায় নির্জনতার উদ্দেশ্য সে জানে ভেতরে ভেতরে কিছু ভাবে … কোথাও না পাইয়া শ্যাষে জলউঁচা…
-
কপিলা কন্দলী
সকালটা নগদে কিনে, বিকেলটা ধার-কর্জ করে সন্ধ্যায় ফুঁ দিলাম তন্দুরী-সেঁকা লাকড়ি-চুলোয়। রাতে আটা-সুজি নিয়ে হাতে গড়া খানতিনেক রুটি সাজালাম নিজ ডাইনিংয়ে। আউলা-ঝাউলা সময়টাকে গাণিতিক বাক্যে টানি আরো কিছু গুণিতক, গুণনীয়ক, ল,সা,গু করে তামসে সাজাই কলাবউ। বাস্তুশিল্পে ব্যস্ত মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে কপিলা কন্দলী ঘরে ঘরে তুলি।
-
কথা
কথাদের যে এতোটা বিধ্বংসী শক্তি আছে তা জানা ছিল না আগে – আণবিক বোমার চেয়েও ভারী একটি-দুটি নয় শত শত হিরোশিমা-নাগাসাকি ধ্বংস করতে সক্ষম, হিরোশিমা-নাগাসাকি তবু বেঁচে উঠেছে – বেঁচে আছে হিরোশিমা-নাগাসাকি আবার জীবনের উত্থান ঘটেছে সেখানে নৈসর্গিক শোভায় শোভিত হয়েছে বন-বনানী ধ্বংসযজ্ঞ উৎপাটিত করে পলিময় হয়েছে মাটি, ধুঁকে ধুঁকে মরতে মরতে বেঁচে উঠেছে প্রকৃতির…
-
না-পারার কবিতা
যতদূর দেখতে পাই ততদূর হাঁটতে পারি না যতদূর ভাবতে পারি ততদূর নামতে পারি না হাওরে নৌকায় বসে দেখি বিস্তীর্ণ জলের ওপারে ছোটবড় পাহাড় পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে ঘাপটিমারা গ্রাম ঝর্ণায় স্নান করছে আদিবাসী বালিকারা আসন্ন বিহুর দিনে কারো কারো বিয়ে হয়ে যাবে বালিকারা একদিন দিদিমাও হবে, তবে আমার যা জানাই হবে না – প্রত্যেকের জীবনই বহু…
-
বাড়ি ফেরার গল্প
এসো বর্ষা, শুভ্র ডানা মেলে! হাত ধরো! হাতে হাত রেখে চলো হাঁটি নদীর তীর ধরে হাঁটতে হাঁটতে মেঘ-নামানো দিগন্তে মিশে যাই! জানো তো? এই সংসারে ফণাতোলা সাপের ভারি কদর! যদি নির্বিষ সাপ হও তাহলে সবাই পা মাড়িয়ে চলে যাবে! তুমি ক্ষতাক্ত হৃদয় নিয়ে নিঃসঙ্গ, একা মুখ থুবড়ে পড়ে থাকবে! কখনো ঝিঁঝির তারাজ্বলা অন্ধকার দেখেছো?…
-
তৃষ্ণাদুপুর
ও সূর্য যৌবন দাও, ঢেলে দাও আলোময় অতল ফাগুন। শতাব্দীর দুঃখভরা গভীর বিষাদ দূর হয়ে যাক, দ্রুত – শনশন ঝড়ের বেগে উর্বরা হাওয়ায়। চরম সত্যের পথে যদি পাহাড়ের বাধা, তবে কীভাবে যে ফুটবে ফুলের কুসুম! ডানা মেলে দেখা দেবে পাখির ঝলক। ছয়টি ঋতু কীভাবে যে গোপনেই গুছিয়ে ফেলে তোমার তৃষ্ণাদুপুর! ভাঙা বাসনায় যদি গ্রাস করে…
