2023
-
দেহঘড়ি
মেঘের জামা পরে বিষণ্ন রোদ আসে পুবের জানালা খুলে করুণ ভায়োলিন বাতাসের মৌনতা ভাঙে শ্রাবণ রোদ্দুরে পথের দুধারে ঝুলে থাকা পাটের মতো শুভ্র চুলগুলো কাঁপে বাতাসের সংগীতে শেষ ট্রেনে বাড়ি যাবে জেনে মুহূর্তগুলো কাটে ভয় ও উৎকণ্ঠায় কেন নিঃশব্দে শূন্যতা বেড়ে ওঠে অপ্রাপ্তির শেকড় বিস্তৃত হয় সমস্ত সত্তা জুড়ে? তোমার উদ্যানে আজ বৃক্ষ শত-শত ফুল…
-
ক্ষণজন্মা
(কবি মাহমুদ আল জামানকে নিবেদিত) ক্ষণজন্মা ভোরে সহজ আলোর ভেতর দিয়ে যে যায় সে দীর্ঘ যায়। ধুধু মরুভূমি নিশ্চিত জেনেও উদাসীন দিন ও রাত্রির মর্মতলে স্মৃতিজাগানিয়া দৃশ্যসীমার ভেতরে শেষ ট্রেন ধরবে বলে যারা বনভূমি উজাড় করে মৃত্যু ডেকে আনে তারা কি শেষ পৃথিবীর যাত্রী? যারা পাথরে মুখ গুঁজে মৌন হয়ে আছে লাবণ্যহীন বিষণ্ন তারা হিংস্রতা…
-
সমান্তরাল দুটি রেখা
কে কার ক্ষমতা অবধি যায় কে ভেজায় পুরুষদণ্ডটি, পিছু হটে স্রোত দৌড়োয় পেছন দরজায় এমন পেছল পথে হাঁটে পরমাণু এমন আগলে রাখা গোপন কপাট সেলাইয়ের শেষে, মুখ টিপে হাসে শল্যকার লুকোনো করাত ছিল, আর ছিল প্লুত জলে ভেসে থাকা প্রশ্নগুলি অন্ধকারে তর্জনীর ত্রাস তহবিল তছরুপের দিনে সমস্ত আকাশ ক্ষৌরি করে উঠে আসে দলা দলা কফ…
-
সমান্তরাল দুটি রেখা পাশাপাশি শুয়ে থাকে চুপ কাটআউট
মাতিসের পেপার কাটিং জগদ্বিখ্যাত আসলে তা কাটআউট চিত্র এবং দ্বিমাত্রিক। কাগজ, বোর্ড বা ওই জাতীয় দ্বিমাত্রিক যে-কোনো মাধ্যম হতে পারে শিল্পীর আশ্রয় ‘এসেনশিয়াল ফর্ম’। একটি কাটআউট চিত্র তার মাধ্যম ও বর্ণসমূহ একটি পরিপূর্ণ পেইন্টিং তথাপি বিস্তর ফারাক। শিল্পের পরিসরে ভাবনার সঙ্গে মনের মিলন : কাটআউটের অপরিহার্য দৃশ্যরূপ।
-
তিনটি কবিতা
২৯শে ডিসেম্বর, ২০২২ কারো সঙ্গেই কথা বলার আগ্রহ নেই, যেন সবকিছুর শেষ ধাপে এসে গেছি। এখন চুপচাপ দেখে যাওয়া, শুনে যাওয়া। নেই, এখন আর কোনো দীর্ঘশ^াসও নেই। রক্তনদীর বয়ে চলা দেখি, গাছের পাতা থেকে টুপটাপ ঝরতে থাকে শীতের শিশির! আমরা মুক্তি চেয়েছিলাম, পরিণামে গনগনে আগুন খেয়ে মৌন সময় কাটাই। একদিকেই চলে গেছে সমস্ত পথ ৩০শে…
-
তুমি যখন অসহায় ভাবো নিজেকে
ধরে নাও তোমার বয়স বেড়ে যাচ্ছে নদীর জলের স্রোতের মতো আর আমারটা থিতু হয়ে আছে চব্বিশে দ্রাঘিমাংশের সব কটা দাগ তুমি পড়তে পারছ পাকা পাকা চুলের সাথে তুলনা দিতে পারছ এক একটি অক্ষের মাঝির দাঁড়ের কাছে পাঠ নিচ্ছ জলের গভীরতা এবং মেনোপজের পর অন্ধচিন্তারা কীভাবে খুবলে খাবে মগজ তা আগেভাগে টের পাচ্ছ বিকেলে লনে বসে…
-
পাঠিকার প্রতি
গূঢ় মধ্যরাতে তুমি নিবিড় পাঠিকা তোমার এ-পাঠমগ্ন চোখের আলোয় আমি আজ শিহরিত কুমার শরীর আমি তৃণবই, বিচলিত, কাদা-জল, গহন জঙ্গল থেকে উড়ে-আসা খড় ঠোঁটে, দাঁতে আর শ^াসাঘাতে রোমাঞ্চিত গাছ-পাতা, পালক-শরীর ভালো ছিল যখন ছিলাম সেই পবিত্র কিতাব ধর্মস্ত্রোত্র, কূট-পাঠকের : পথেঘাটে কত কত কোলাহল, তবু স্পর্শহীন, অপঠিত, কুমার-ছতর
-
মাথার ওপর দিয়ে
তোমার মাথার ওপর দিয়ে একটি কবিতা উড়ে গেল তার মহিমান্বিত চিত্রকল্পগুলো এমনকি তারকারাও ছুঁতে পেল না অথচ তারা নক্ষত্র-শোভিত বিপুলা সুন্দর তাদের বুনন কৌশলে বেনারসি কিংবা একদার প্রসিদ্ধ মসলিনের কথা ভাবা যায় তাদের মেটাফরগুলো আগুন জ¦ালাতে পারে কামান ছুড়তে পারে, প্রয়োজনে বোমা মেরে উড়িয়ে দিতে পারে কল্পনাপ্রকার এবং উপমার পর উপমা – মেঘমালার অভূত …
-
সমালোচক
‘শূন্য’ এক ফুলের নাম অথবা ‘মন’ এক ভুলের নাম এই দুটি স্ত্রীর স্বামী যিনি তিনি ভেজা বেড়াল, তিনি কবি চাল নুন আর বাজারের থলে হাতে এঘর ওঘর করে না-করে ফুল ও ভুলের নিচে চাপা পড়ে মারা গেলেন তবুও তার বিপুল অমরত্বের অনুপ্রাস ঘিরে ব্যর্থতার সংসার, সফল সমাজ বাড়-বাড়ন্ত দুয়োরানি সুয়োরানির শ্রুতি ও মিথ আর আঙিনার…
-
ডুব
বৃষ্টি এলে বাজতে থাকে গানের খাতা ঠান্ডা হাওয়া ঝাপটা মারে একটু জোরে – ভেজা শাড়ি রাধার বুকে কদম পাতা আমায় তুমি জড়িয়ে ধরো আস্তে করে! সুরও বাজে প্রাণের মাঝে হালকা ব্যথা বৃষ্টি-ফোঁটা ছড়িয়ে পড়ে শার্সি ভরে – নদীর বুকে উঠলে ঢেউ কান্না গাথা আমায় তুমি ডুবিয়ে দিও আস্তে করে! হিজল জলে শ্রাবণ দিনে মৃদু কথা…
-
তুমি কি সুইয়ের বুকে অবিরাম সুতো
বারান্দায় গেলে না। ছাদেও না। উঠোনও তো ফেলে এসেছি বহুদূরে। আরো দূরে মাঠ, ঘাট, গঞ্জ, হাট। তারও দূরে ফেলে এসেছি অধিকার। তুমি যেন কার? তুমি কি তোমার হয়ে দাঁড়াতে পারো বারান্দায়। হাত রাখো রোদে। শুকাতে দাও নিরামিষ মন বরফের ঠোঁট থেকে দানা খুঁটে খায় অবাধ্য চড়ুই তুমি কি সুইয়ের বুকে অবিরাম সুতো … মসৃণ ধাকায়…
-
সিসি ক্যামেরা
একটি পাখিকে পাহারা দিয়েছি বিনা শর্তে! শকুনের মুখ থেকে বাঁচিয়েছি অনেকবার সাঁতার দিতে গিয়ে ডুবেই গিয়েছিল – কেউ এগিয়ে আসেনি; পাড়ে তুলেছি ভুলেই গিয়েছিলাম আমিও সাঁতার জানি না। ধার করা রোদে পালক ফিরিয়ে দিয়েছি কুকুরের মুখ থেকে রক্ষা করতে জলাতঙ্কে; আমাকে গ্রামছাড়া করেছে শাসকপ্রতি! পাখি তোমাকে দেখতে দেখতে দেখা হলো না ভোরের আকাশ, তারার ফুল…
