কবিতা
-
হাটে ও বাজারে
না-লেখা কবিতার মাঠে লাল রক্তজবা মিহিরোদ, অপার রহস্যঢেউ ভালোবেসে ডুব দাও গহন অতলে হয়তো ঝিনুক পাবে, মুক্তো কি পাবে না? কিছুদূরে হরীতকী বনজুড়ে পাখিদের আলাপচারিতা বাতাসের গুনগুন শিউলি গাছটি ঝড়ে-ভাঙা ডাল নিয়ে কতকাল উঠোনে দাঁড়িয়ে এই দেখে প্রতিদিন পাতা ঝরে যায় তারপরও গোধূলির আতর মেখে বিষণ্ন জোনাকি দৃশ্যের আড়ালে গিয়ে গহন বোধের দ্বিরালাপে খুঁজে পায়…
-
অপ্রকৃত অর্থলীলা
মন বিনিময়ের সোনালি খড়ে একটু একটু করে গড়ে ওঠা বাতাসে দোদুল্যমান ঘরকম্পিত প্রেমের শিঞ্জন যেভাবে দূরত্ব অতিক্রমী অন্তর্জালে দেখি আমাদের মুখচ্ছবি গ্লাসস্ক্রিনে পরস্পর আর মুহুর্মুহু ক্ষুদে বার্তার তরঙ্গ হৃদয় যোজনা করে আমাদের যেন উদ্ভিন্ন প্রেমের সিদ্ধান্ত নেবার জন্য যথাযথ এই পরিসর, ভেবে স্বপ্ন বোনো তুমি আর আমাকেও নিতে চাও সঙ্গী করে তার। সহজ অর্থাগমের জাদু…
-
দেহের ভেতরে জল ও পাথুরে গোধূলি
ঘুমিয়েই ছিলাম, জেগে দেখি : যেন আমি ঘুমিয়েই আছি পাতায় পাতায় রেখে যাওয়া ভালোবাসা রেখে যাওয়া প্রচুর বৃষ্টি মননে ধারণ করেও আমি পুনর্বার ঘুমের বাসনা করি। আমার সামনে পিছনে সুখের শূন্যতা সুস্থিত, যেন এক নিদ্রামগ্ন কোকিলা আমাকে বিনয় করে, বলে : খাও, একমুঠো বিষদানা খাও আর সরল জীবন যাপনে থাকো। বুঝতে পারি, কোনো এক প্রবল…
-
শূন্য কাচের বাসন
পোড়া জমিনের ওপরে দাঁড়িয়ে আমি এখন একটা শূন্য কাচের বাসন; কাচের বাসনে নেই বিষ – নেই সুধা কাচের বাসনে নেই স্নায়ু, নেই শিরা। এখন আমার কোনো দুঃখ নেই এখন আমার কোনো শোক নেই যন্ত্রণার কাঁকড়া আমার গা আঁকড়ে নেই আমি ঝুরঝুর করে ভেঙে পড়বো শূন্য কাচের বাসন ধান ছাড়া – দূর্বা ছাড়া – কাশফুল ছাড়া…
-
সোলজার সোলজার
আমাকে ক্ষমা করো হে দূরতম বৈঠকি সন্ধ্যা অকাতরে ডুবে যাওয়া নিমগ্ন নিশ্বাস জটিল হিসাব-নিকাশ, লেন-দেন স্বচ্ছতা অকল্পনীয় আঁকাবাঁকা ঘোর ত্রিকালদর্শী জাদুকর হে হে বৈঠকি সন্ধ্যা, দেখে যাও এসে ঘরে ফিরে আসা উৎসব কেমন লণ্ডভণ্ড অন্ধ দাবাড়ু কেমন চাল দেয় একরোখা আগুন দেখে মাটির কাছাকাছি মন চায় যেতে চারদিকে চিৎকার সোলজার! সোলজার!! রাজাকে রক্ষা কর অনেক…
-
খুঁজি শব্দ নীরবতার
খুঁজি শব্দ নীরবতার অযথা তর্জনী বিভ্রান্তিতে ভরা শূন্য আকাশ। পার করি নর্দমার দিন কটুগন্ধ উৎস যার ভয়াবহ, সাজানো প্রতারণায়। এখন এই যে এত তামাশা বুঝি সার্কাস এক বিচিত্র বিস্ময়ের কিছু নেই, কর্মফল কী আছে কান্না করার! তবু স্বপ্নময় চোখ খুঁজে বাগান সূর্যমুখী পূর্ণদৈর্ঘ্য সহনশীলতা হয়তো অনতিদূর আছে অপেক্ষায় কাক্সিক্ষত সেই প্রকৃত ভোর!
-
তোমার সঙ্গে নিঃসঙ্গ একটা ঋতু
তোমার সঙ্গে একটা সম্পূর্ণ ঋতু নিঃসঙ্গ কেটে গেল। এমনটাই কথা ছিল। একটি নদীর কাছে দিন কী রাত্রি যত শব্দ আসে পাখি ও প্রাণীর, নদী থেকে আসা হাওয়ায় গাছের পাতার দোলা, বুকে পায়ে গুইসাপের সুস্থির হেঁটে যাওয়া সব একটা ভোরের নানা রঙে পরস্পর মিলে ও মিশে ছিল। আলাদা করে কিছু দেখার ছিল না। শোনার ছিল না।…
-
ঘর
একটুখানি ঘরের জন্যই তো আমাকে এত বাহিরে ঘুরে মরতে হয় ঝড়, বৃষ্টি, আগুন ঝঞ্ঝায়, একেলা সন্ধ্যায়। দিগন্তবিস্তারী আকাশও আমাকে এতটা খোলা স্থান দিতে পারে না, যা পারে ছাদের নিচের এতটুকু। আমি দশ ফুট বাই দশ ফুট ছায়ার জন্য ঘুরিয়া বেড়াই দশ দিগন্ত। বৃক্ষকে সকলে প্রশংসা করে ছায়ার জন্যই তো? অথচ কতই তুচ্ছ সে তোমার আঁচলের…
-
মরণের সাথে একত্রবাস
আলো-আঁধারিতে ডোরাকাটা রাত – বাঘ যেনো সাদাকালো!চিত্রা হরিণী পাশ ফিরে শোয়,চেতনাচেতনে, শয়নে-স্বপনে ধলপহরের আলো। দু-দুটি শাবক প্রসব করেও সন্তানহারা শেষে –একটি গিয়েছে চিতাদের পেটে,আরেকটা গেছে পাতকিনী ঝড় আইলার জলে ভেসে। মরণের সাথে একত্রবাস নিয়তির লেখা বিধি –হরিণের পিছে ধাবমান ভয়মহাসত্যের অকাট্য তথা প্রকাশ্য প্রতিনিধি।
-
সময়
অবিনশ্বর ধোঁয়ার মতোউড়ে যাচ্ছে সময় – হাওয়ায় হাওয়ায়মিলিয়ে যাচ্ছে রোরুদ্যমান শূন্যতাআকাশ ঢাকা আছে কুয়াশায়সাদা দিগন্তে ভোর হয় –খড়ি ওঠা জীবনের অফুরান দীনতায়জীবন গড়ায়!সারাদিন ঘাটে ফেরি আসেফেরি যায় মানুষেরআসা যাওয়ার নিঃশ্বাস জলেররেখায় জেগে থাকে – মুছে যায়লেখা হয় আবারো চলমানভাসমান পথিকজলের অক্ষরে পাখির গাননদীর দুপাশে ঘাস ও বৃক্ষদেরসাথে বেঁচে থাকা জীবনের ছবিসকাল বেলার জলের রেখায় আঁকা…
-
ভোর
মেঘ যদি ঢাকে সূর্যালোকের খ্যাতিঅন্ধকারের ঠোঁটে হেসে থাকে আলোমেঘমল্লারে স্বপ্নে বিষাদ মেখেউত্তাল নদে স্নান সেরে নেবে শীতে;পরিশুদ্ধতা আহ্নিকে হবে মাটি মেঘ কেটে যায়, আলোর আলোকরেখাজেগেছে মানুষ পাওনাটা বুঝে নিতেভাগ্যশিকলে বন্দি থাকাটা ভুলস্বনির্ভরতা নতুন সংবাদবাহী প্রত্যেকে তার আপন কর্মে ব্রতীবিপক্ষে গেলে বিপদ ঘনিয়ে আসেসত্য ও ন্যায় যুক্তি-তর্কে ম্লানভাগ্যের মোহে খুঁজো না হস্তরেখা মানুষ যখনি নিজের পরিধি…
-
উন্মোচিত হচ্ছি আমি
ভোরের আলোয়উন্মোচিত হচ্ছি আমি,পত্রপুঞ্জের অবগুণ্ঠন ভাঙছি ধীরে,গুমরে-ওঠা, আটকে-পড়া, নির্বাসনে পড়ে-থাকাশব্দ আমার চাই;অনুভবের জায়গা খালি –দূরাগত শব্দ কেন কাছে আসতে নাই?রক্তে বুঝি অভিজ্ঞতার রূপায়ণে ছোট্ট পোকা ডাকে,আকাশছোঁয়া শব্দদ্যুতি কোথায় লুকিয়ে থাকে? ঊর্ধ্বমুখী বৃক্ষ ছুঁয়ে সন্ধ্যা যখন নামে,উড়তে-থাকা শব্দগুলো রুদ্ধদ্বারে থামে;প্রেতের ছায়ায় অন্যরকম ভূমিচিত্র উঠছে জেগে,সতেজ শব্দ বাঁধছে বাসা হৃদয়জুড়ে;দিন-রাত্রির অস্তিগর্ভে নেতিবাদের অনুষঙ্গ ঘোরে,চকিতে ওই বিচ্ছুরণে জীবন-মৃত্যুর…
