October 2022
-
প্রলুব্ধ করেছিল হাওয়া
শুধু কবিতায় তোমাকে স্পর্শ করা যায় – ভালোমন্দ জানা যায়, স্কয়ারে, মফস্বল থেকে এসে সারা বিকেল তোমার পাশে বসে থাকা যায়। এই যে তোলপাড় করা সংবাদ, মর্মর করে ভাঙছে পাঁজরের হাড়, তৌহিদা, কুহকে জড়ানো মহাসমুদ্রের তীর ধরে ছুটছে রিকশা, বহুকাল চোরাচালানের পর, যাত্রীবদলের মতো চাপা বেদনায় ঘামছে হাতের তালু, তোমার চুলগুলো নাচুনে পদ্মার ঢেউয়ের মতো…
-
অটোফ্যাজি
(ইয়োশিনোরি ওশামির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে) ধানের মরশুম ছিল উঞ্ছবৃত্তিকাল আমাদের শরীরস্বভাবে বরাবর কোষেদের স্বভোজন ছিল – ইঁদুরগর্তে চোখ পরিত্যক্ত ধান্যক্ষেতের উচ্ছিষ্ট হাতে ঘরে-ফেরা – স্পষ্ট সেইসব ছবি, স্পষ্টতর আমাকে দেখায় আজো অভুক্ত পথের সুষমা লোভের পসরা-সাজানো রাস্তার দু-ধার কখনো ডাকেনি; আমি কাফকার ক্ষুধাশিল্পী না-পাবার অন্যতর বেদনার কাছে নতজানু ঘিয়ের গন্ধভরা পাতে নিঃশব্দে জল ঢেলে দিয়ে…
-
চাতক-বৃষ্টি
যদি চাও স্নিগ্ধতার স্পর্শ, পাপড়ি মেলা দৈনন্দিন এবং সাক্ষাৎ পেতে চাতক বৃষ্টির, মেয়াদ উত্তীর্ণ ভোজ্যতেল, পণ্য ভেবে ছুড়ে ফেলে দাও ফিনকি দিয়ে ওঠা মানসিক চাপ; দূর করো পিছে লাগা বা লেলিয়ে দেওয়া চর্চা, প্রতিবেশী বা পরকে ডুবিয়ে মারার ছলাকলা। নিশ্বাস-বিশ্বাস থেকে হাওয়ায় ওড়াও কবুতর উড়াল পুড়িয়ে দেওয়ার বদ্ধমূল জেদ। কালি-তেল লাগা ভেতরটা ধুয়ে ফেলো অনুশোচনার…
-
ভ্রমণ
কত মানুষ প্রেমে পড়ে রোজ ডাল ধরে ডাল ছাড়ে, ভ্রমণের স্বাদ নাকি আলাদা হয়। ছাড়া আর ধরার মাঝে কি ভালোবাসা থাকে? নদী পাহাড় জঙ্গলে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্তি আসে না? আমার তো প্রেম নেই, আছে একটা ঘর। মাঝে মাঝে জানতে ইচ্ছে করে খুব – ভালোবাসলে কেমন লাগে।
-

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ : শ্রেষ্ঠ বন্ডগার্ল
কেউ জগতের রানিই হোন আর পীর-পয়গম্বর কিংবা সাধারণ মানুষই হোন। মৃত্যুই যে ধ্রুব আমরা তা জানি। তবু আমার বিলেতের জীবনের অভ্যস্ততায় বড় অদ্ভুত লাগছে যে, ব্রিটেন ও বাকিংহাম প্যালেসের রাজপ্রাসাদ আছে কিন্তু সেখানে রানী নেই। এ যেন পাখির বাসায় মা পাখি নেই। আরো ভাবতে পারি না এতো দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ৭৩ বছর বয়সে অবশেষে প্রিন্স…
-

তপস্বী ও তরঙ্গিণী : পুরাণের আধুনিক নাট্য
‘নারী মাতা তাই প্রয়োজনীয়; কিন্তু প্রাণীর পক্ষে সর্পাঘাত যেমন, তপস্বীর পক্ষে নারী তেমন মারাত্মক।’ সাধনার ইতিহাসে মুনিদের নারীকেন্দ্রিক সাধনা স্খলনের কথা কে না জানে। মুনি বিভাণ্ডক নিজে অপ্সরী উর্বশী দ্বারা পতিত হলে রাগে-ক্ষোভে অভিমানে নিজের সন্তান ঋষ্যশৃঙ্গকে গড়ে তুলেছিলেন নারীচেতনহীনভাবে। কিন্তু এত সতর্কতার পরও নারী দ্বারা সেই ঋষ্যশৃঙ্গের স্খলনেরই দ্বান্দ্বিক অভিঘাতে বিভাণ্ডক বিপর্যস্ত হয়ে উঠছিলেন।…
-

জি এম এম ই করিমের ভিজ্যুয়াল ডায়েরিতে গত শতকের জীবনযাপন
বাংলাদেশে আলোকচিত্রচর্চার সূচনাকালে যে-কজন এই বিষয়টিতে বিশেষ ব্যুৎপত্তি দেখাতে সমর্থ হয়েছেন গোলাম মোরশেদ মোহাম্মদ এহসানুল করিম, বা সংক্ষেপে জি এম এম ই করিম (১৯২১-৯৯), তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তাঁর জন্মশতবার্ষিকী সদ্য গত হয়েছে। তাঁর বাবা খানবাহাদুর ফজলুল করিম ও মা আলতাফুন্নেসা খাতুন। ব্রিটিশশাসিত ভারতবর্ষের ঢাকায় জন্ম নেওয়া বাঙালি আলোকচিত্রী এহসানুল করিম চল্লিশের দশকে শখের বশে ফটোগ্রাফি…
-

মমি
লবণ বাতাসের সমুদ্র খাঁড়িতে ওদের সেটা তৃতীয় দিন। আগের দুটো দিন গেছে হইচইয়ে। বড় একটা দল। বেশির ভাগ নিজেদের চেনা, অনেক বছরের চেনা, তাদের আউটিং। এখন তো এও এক আমোদ। শহর থেকে দূরে রাত্রিবাস, মোচ্ছব, রি-ইউনিয়ন। সেসবে আগের দুদিন। টানা। সেদিন সকাল থেকে সমুদ্র শান্ত। সমুদ্র কি শান্ত! সকালবেলা ভাটায় সরে যাওয়া সাগর দেখে ওদের…
-

জলের অক্ষরে লেখা
পর্ব : ১০ আড্ডা আর তেমন জমলো না। হাসি-ঠাট্টা-তামাশা-দুষ্টুমি সবই হলো, কিন্তু ঋভু ঠিক অংশ নিতে পারলো না। সেও হাসলো বটে, কথার পিঠে কথাও বললো, কিন্তু বারবার মনে হতে লাগলো, এসবের কোনো মানে নেই। অবশ্য কিসেরই বা মানে আছে? এই প্রশ্ন মনে এলে কোনো উত্তর খুঁজে পেল না নিজের ভেতরে। সে বরাবরই বলে কম, শোনে…
-

আদম সুরত
আমগো লুকমানের চোখগুলি আছিল ক্যামুন কালা ডাঙ্গর। আর শইল্যের রংডা আছিল ঠিক বগার মতোন সাদা। মাডি দিয়া খেললেও কুনোদিন কালি লাগত না শইল্যের মইধ্যে। তুই হেই রং পাইছোসরে মাইয়া … কী যে কও দাদি, যেই মানুষডার চেহারা ঠিকমতোন মনে নাই, কুনোদিন দেহিও নাই তার রং বগার মতোন না কালা কাউয়া এইসব মিলাই ক্যামনে? এইসব আন্দাজি…
-

মেসিডোনিয়ায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের প্রসঙ্গ
ভারদার নদীর পাড়ে পাথরে বাঁধানো প্রমেনাদ ধরে আমরা হাঁটি। আজ মাত্র ঘণ্টা তিনেক পর ইউরি মাতসুইয়ামা হোটেল থেকে চেক আউট করবে। সে লেক অহরিদের দিকে বেড়াতে যাচ্ছে। জাপান থেকে দুদিন আগে ইউরি মেসিডোনিয়ার রাজধানী স্কোপিয়াতে এসেছে। তার কাঁধ থেকে ঝুলছে অনেক লেন্সে পূর্ণ একটি চামড়ার ব্যাগ। ভোরের প্রথম আলোয় আমরা হোটেল ছেড়েছি। একটু হেঁটে, ইউরির…
-
আমেরিকান-বাঙালি কথন
প্রাবন্ধিক-গবেষক-শিশুসাহিত্যিক-সম্পাদক আহমাদ মাযহারের সঙ্গে সামনাসামনি দেখা হয়েছে একবারই, কিন্তু টেলিফোনে তাঁর সঙ্গে অনেক দীর্ঘ আলাপ হয়েছে। ভাষা ও সাহিত্য সম্পর্কে আমার সকল প্রশ্নের উত্তর তিনি দিয়েছেন অসীম ধৈর্যের সঙ্গে। আমার জানার পরিধি প্রতিবারই বেড়েছে শিক্ষকতুল্য ওই মানুষটির সঙ্গে কথোপকথনে। তাঁর সাহিত্যকর্মের খুব কমই আমার পড়া আছে। সম্প্রতি আমেরিকান বাঙালি মন নামে তাঁর একটি বই প্রকাশিত…
