February
-
অনন্ত নেব্যুলার পথে
অস্তিকুহকিনী জ্বর এই আসে এই যায় আমি ছিঁড়ে ফেলি মাংসের সব আবরণ তখনো ঢোকেনি ভোর এই ঘরে আলট্রামেরিন নীল, চরে বেড়াচ্ছে নাইটবাল্ব তখনো বুঝিনি সেটা ভোর না বিকেল দামিনী ফুটছে যেন আলোগাছ প্রবীণ বাঘিনি একা শুয়ে কবেকার টোটেমের মুখ তার দাঁতের পাটির ফাঁকে লেগে আছে জীবাশ্মের কুচি ইগলুর শীতে একা জাগছে প্ল্যাসেন্টা, মামড়ি উঠছে তার দেহ থেকে…
-
আবুল হাসনাত স্মরণে তিনটি কবিতা
শুকনো পাতার ছবি-৫৩ টুকরো ভাঙা ডালের কথাই ভাবি, যেখানে মাঝে-মাঝে এসে বসে থাকেন বয়স্ক নিঃসঙ্গ পাখি। সে যখন কথা বলে, তুমিও কথা বলে ওঠো, আমি চুপচাপ ছায়া খুঁজি স্বজনদের স্নেহ-করতলে। মৃতদের কারো-কারো ভর্ৎসনা শুনে বুঝি জীবন এমনই সুদূর আর মানুষ তেমনই একা শুকনো পাতার ছবি-৫৬ কোলাহলের আগ্রহটুকু হারিয়ে একা বসে আছি। চাল-ডাল-নুনের হিসেবের সঙ্গে দুঃস্বপ্নগুলো…
-
পরান পোড়ে
পরান পোড়ে পদ্মফুলে; পলাশ-শিমুল ডালপালা ছড়িয়েছে পথিক-জুড়াতে; প্রাণ পোড়ে খালি খেয়ায় দাঁড়াতে! পদ্মাসনে নাশ করে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা; সটান দাঁড়ালাম কোলাহল, হল্লা জয় করে নিতে! পাথরে প্রস্তুতিপর্ব সারি, সরবো না এখনই এতো ঘ্রাণ, এতো সমর্পণ কী করে হারাই!
-
ভুলে গেছে হৃদয়পাঠ
গর্জন গাছের মতো প্রেম শপথে উচ্চকিত তবুও ভেঙে যায় – ভেসে যায় সামান্য খড় উড়ে যায় শিমুলের বিষণ্ন তুলো ধুলো অঙ্গে নিয়ে। কেন ভাঙে হৃদয়ের পবিত্র বন্দনা কেন ফুলের শরীর থেকে ঝরে পুতিগন্ধ রক্ত? মানুষ হেঁটে যেতে পারে না মানুষের দুয়ারে পথে পথে খানাখন্দ, বুকে বুকে বাঙ্কার আততায়ীর অস্ত্র তাক! মা পায়রা পুষতেন, ছোট খোপ…
-
মৃত্যুর সারল্য
(স্নেহের ভাগ্নি লামিসা, মাত্র ছ-বছরেই মৃত্যু এসে তুলে নিল যাকে) এমন কাউকে ভালোবাসি, যে আমাকে বারবার স্মরণ করিয়ে দেয় মৃত্যুর বারতা বলে, প্রতিদিন সাবানের চেয়ে অধিক স্বচ্ছন্দে মৃত্যুকে ব্যবহার করা যায় গতকাল যে-লোকটি খুন হলো কিংবা আজকেই যে ছ-বছরের শিশুটির মৃত্যু হলো তারা প্রত্যেকেই কেমন খলবল করে হাসছে অথচ তার বাবা-মা-স্বজনের বেলায় মেনে নেবার কথা…
-
অসাধ্য
প্রসন্ন রাত্রির বুকে ঘুমায় প্রকৃতি আমার চোখের ঘুম হয়েছে বিলীন সাধের বাসরঘরে নির্দয় মনসা শরীর বিষাক্ত করে মরণ ছোবলে হারাই পাওনা যত বিধির বিধান অলীক স্বপনসুখ সয় না কপালে আঘাতে আঘাতে ভাঙে সকল প্রত্যাশা রুপালি প্রভাত যার বিফল কামনা। ধারণ করেছি বুকে সাধের মিনার মায়াবী চাঁদের ছায়া সাধ্য কি ছোঁয়ার
-
বৃষ্টির জংশনে
এ-বর্ষায় ছড়ানো বৃষ্টির গান শুনতে শুনতে তোমার পুরনো ঘরে ছুটে যাব! সাদামাটা কদমের গোছা নিয়ে হারানো জংশনে হেঁটে যাব! জমাট বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে তোমার আমব্রেলার দিকে ছুটে যাব! জানি তুমি বারান্দা থেকে দেখবে আমার ভিজে যাওয়া মুখ – বৃষ্টিভেজা শার্টে আমি ঠায় দাঁড়িয়ে থাকব জলার্ত রাস্তায় – হাতে ধরে রাখব জলভেজা বিবশ কদম – আর…
-
জলের আয়না
পারভেজ আহসান ডানা ভাঙে প্রবল বাতাসে পাখিটি লুটিয়ে পড়ে শস্যের গভীরে শিশুদল এসে দেখে বাদামি ও হলুদ রঙের পাখি পড়ে আছে মটরের ক্ষেতে তাদের কোমল শুশ্রƒষায় পখিটি বাড়ি ফেরার স্বপ্ন দেখে সেই সময়ে ক’জন অন্ধ লোক ছুটে আসে তারা বলে, এটি সোনাই, এটির ডানায় আছে সোনার কারুকাজ ঠোঁট দুটো কাঁচা হলুদ, রোদের রং ছড়ানো সারাদেহে…
-
কটকটকটাস
ক’দিন ধরে কুয়াশা আজ রৌদ্রোজ্জ্বল সকাল আমাদের দরজা খুলে দেয়া হয় বিবিধ গুজব, টয়লেট সমস্যাজনিত কারণে দরজা খুলতে চায় না কেউ মাসুদা তা করে না, সুযোগ পেলেই খুলে দেয় আমরা তখন খুঁটে খুঁটে ইট বালি খুদকুড়ো পোকামাকড় খাই এদিকে সেদিকে দৌড়াই বাঁশবাগনের দিকে যাই সীমানায় ঘুরঘুর করে তুলোরাশি বাটি, বুকের ওপর পা ডুবিয়ে দেয় অভিজাত…
-
বনচড়ুই, মা, অনর্থ
মা তাওয়ায় রুটি সেঁকে দেন, আমরা খাই তিন ভাইবোন বসেছি কুনাঘরের দাওয়ায় কিছু বনচড়ুই উড়ে এসে বসেছে উঠানে প্রতিযোগীর মতো ধরতে যাই, আর আমরা উড়ে যাই গমক্ষেতের সম্ভাব্য হাওয়ায় আমরা ক্লান্ত হই একে অপরের কুৎসায় রটনায় মা হৃদপিণ্ড ভেজে দেন তাওয়ায় আমরা রক্তাক্ত হতে হতে খাই মায়ের হৃদপিণ্ড খেতে খেতে আমরাও বাবা মা হয়ে যাই…
-
নভেম্বর রেইন
ময়মনসিংহ গিয়ে শুনি সে জামালপুরে, জামালপুরে গিয়ে শুনি মেলান্দহে। মেলান্দহ গিয়ে কোথাও কাউকে না পেয়ে হুটহাট শেরপুরে। শেরপুর থেকে ঢাকায় বিফল ফিরতে ফিরতে অনুধাবনে আসে, পথের দুই পাশে তোমার-আমার বিপরীত গমনাগমনের তীব্রগন্ধা ফুল ফুটে আছে।
-
হে সুন্দর দীর্ঘজীবী হও
আমার আরাধ্য সুন্দর তুমি দীর্ঘজীবী হও তোমার আলিঙ্গনের আবেশে আবদ্ধ হৃদয় পাঁজরের গোপন কুঠুরিতে খোদাই করা তোমার নাম সে তুমি জানতেও পারোনি কখনো ফের যদি দেখা হয় কোনো জনমে ফের যদি হয় ভালোবাসাবাসি সেদিন প্রেমের স্বর্গ রচনা হবে সেদিন দুজনে দুজনার হবো।
