December

  • বৃষ্টি নামলে

    বৃষ্টি নামলে কেমন এক মনখারাপ হয় – সে কেবল তোমারই জন্যে কেননা তুমি তো আমারই, পর নয় – যুগ যুগ ধরে তুমি আমারই তো ছিলে – রোজই মেলাতো পা, এই মন তোমাকে নিয়ে হিজিবিজি ভাবনা মিছিলে – জলদমেঘে ঢেকে এলো আচানক যেন সাঁঝ হয়ে এলো এই ভরদুপুর ঝরল বৃষ্টি উঠোনে, হাসনুহানার পাতায় সুর তুলে লক্ষ…

  • পোকাজন্ম 

    পোকা, তোমার আগুন মাখার ঝোঁক! পাখি, তোমার তীরের প্রতি নেশা! ফুল প্রায়শই আত্মঘাতী হয় এবং স্বপ্ন, স্বপ্ন সংকট-ঘেঁষা স্বপ্ন আগুন, আমি পোকা হয়ে যাই স্বপ্ন পাখি, তীর আমাকে তাক করে স্বপ্ন ফুল, ঘ্রাণের প্রতি দুর্বলতা ছিল স্বপ্ন নীল, আক্রান্ত একপ্রকার জ্বরে আমার এমন জীবনধারা দ্যাখো এক টোকাতেই আকাশে উড়ে যাই আর বাতাসে ছড়াচ্ছো নিশ্বাস তাতেই…

  • উত্তরাধিকার

    পূর্র্বপুরুষদের মতো আমিও নতুনকে দিয়ে যাই কোলাহল-শৈশব, মেঘহীন বুকের মতো অনিন্দ্যসুন্দর নীলিমা, স্নিগ্ধ গুচ্ছ সকাল; একটি বৃন্তে জড়িয়ে থাকা শান্তিময় সময়।  বৈভব সম্পদে অসুখ নিহিত, দেখেছি আমি, মমতার নিখাদ মায়ায় সারাটা সময় হেঁটেছি; আমাকে শান্তি দিয়েছিল দুরন্তপনার যাপন। ঐশ^র্যে ভোগের উৎসব দেখেছি পরতে পরতে যেখানে মানবতা কাঁদে, দ্বিপদী হয়ে যায় অমানুষ! ভূমিহীন আমি, ঘরহীন ঘরে…

  • জন্মান্তর, অঋব

    তো, আমি মরবো ঠিক অপঘাতে – ফুলের স-গোত্র সংঘাতে বুকে এসে বসবে শকুন, পচবে না আমার লাশ, – বাঁচবো আমি সর্বভুক ক্ষুধার্তের পেটে, অথবা আমি বেঁচে রইবো প্রিয়তমা, বিস্মৃতি, তোর নীরব আঘাতে আঘাতে তুই আসবি, ডাকবি কেঁদে কেঁদে ‘ও, আউশ সখা কই গেলি-রে?’ আমাকে ঠোঁটে করে নিয়ে যাবে বাবুই, অ-ভুক্ত সেই ধানক্ষেত, নদী তীরে! ধান…

  • কাঁটা

    অষ্টাদশী পদ্ম নয়, বরং সুঁচালো  কাঁটা হয়ে আছে সংসারের।  তার চক্ষু তুলে তাকানোটা  মৌমাছি বা ভিমরুলের হুল; কারো কাছে নীরব দংশন।   ধরা-ছোঁয়া জিনিসের মাঝে   ওদের বাঁকানো চোখ দেখে  লেগে আছে সর্দি, বর্জ্যের বিশাখা থেকে  নির্গমন হওয়া নাকের দুশমন-জল। একটু নড়াচড়া বা ডাব শীতল বাতাস খাওয়াকে  মনে করা হয়  পায়ের তলায় বা রানের পাশে হয়েছে বিষফোঁড়া। …

  • কৈফিয়ত

    সেই পাকুড়বৃক্ষ জেগে উঠুক। অপেক্ষায় আছি। যে নিজের ছায়াশিল্প ভাসাতে ভাসাতে শেষবার কেঁদেছিল বংশাইয়ের কোমল জলে। কিংবা হয়তো ঘুমিয়ে পড়া এক ঈগলের গল্প শুনে যাওয়া হঠাৎ মধ্যরাতে যে দুপুর দুপুর বলে চেঁচাতে চেঁচাতে পৌঁছে গেছে অপরূপ মরূদ্যানের দিকে । সত্যিই জেনে গেছি কেউ নই আমি শূন্যতা নিঙড়ানো নৈঃশব্দ্য ঘিরে যে আছে ঘুমের আবহ নিয়ে মাতাল…

  • মৃতঘড়ি

    সূর্য ও কুয়াশার সম্পর্ক আহ্লাদময় সাদা চাদরে ঢাকা কুসুমমুখ – প্রসন্ন সকাল চাঁদ এখন কৃষ্ণপক্ষের বাড়ি দিন দিন বাড়ছে রাতের দেহ বৃক্ষকাণ্ড ছোঁয় মৃত্তিকার বুক সে ভুলে গ্যাছে আকাশচুম্বনের গল্প রুগ্ণ  সন্ধ্যায় কজন বাউল গায় শাহ আব্দুল করিমের গান।

  • এইসব নিঃসঙ্গতা

    ‘কোথাও কেউ নেই’ এইসব নিঃসঙ্গতা একদিন কবরের মতো শুয়ে রইলো। একটা শরীর শৈশবের দিকে গেল, একটা শরীর যৌবনের দিকে, সূর্য তার সমস্ত সৌন্দর্য নিয়ে লালটুকটুক মুখ করে ডুবে যেতে যেতে একবার ফিরেও তাকায়নি। সেইসব পথ আগের মতোই। সেই সব নদী। সেই সব গাছ। পাতাদের ঝরে যেতে দেখে সে-কবরটা শুয়েই রইলো। মোড়ে ঘোড়ার গাড়িটি স্থির। এইসব…

  • তীর্থযাত্রী : জ্ঞানের পথে শাশ্বত যাত্রা

    তীর্থযাত্রী : জ্ঞানের পথে শাশ্বত যাত্রা

    শিল্প জীবনের প্রতিচ্ছবি নয়। জীবনের প্রতিরূপায়ণ। নাট্যতাত্ত্ব্কি স্তানিস্লাভস্কি নাট্যে সুপার অবজেক্টিভকে প্রধানরূপে দাবি করেন। তিনি মনে করেন, নাটক চূড়ান্ত একটি ভাববস্তু উপহার দেবে দর্শককে। সম্প্রতি ঢাকার মঞ্চে তীর্থযাত্রী নাটকটি দর্শন-গল্প-অভিনয়-দৃশ্য একীভূত হয়ে অখণ্ড এক জ্ঞানতাত্ত্বিক ভাষ্য তৈরি করেছে। এ-নাট্যের কাহিনি গ্রহণ করা হয়েছে হুমায়ুন কবির-রচিত তীর্থযাত্রী তিনজন তার্কিক গ্রন্থ থেকে। নির্দেশনা দিয়েছেন স্বনামধন্য অভিনেতা ও…

  • নগেনের অন্তর্ধান

    নগেনের অন্তর্ধান

    নগেন নিঃশব্দ। স্থির ছবির মতো দাঁড়িয়ে আছে। এই অবস্থায় যে কেউ ওকে দেখলে ধন্দে পড়ে যাবে। মনে হবে কে যেন ওকে এমন করেই স্ট্যাচু বানিয়ে দিয়েছে। নৌকাটি অনড়। কোনো জাদুমন্ত্রে স্থির হয়ে আছে। হাওয়া এসে থমকে গেছে যেন! শুক্লা তিথির চাঁদটা কেমন ম্যাড়মেড়ে আলো ছড়াচ্ছে। সমস্ত চরাচরে আর কেউ নেই। হাতে জাল নিয়ে নগেন স্থির…

  • ইতিহাস থেকে শিক্ষাগ্রহণ কিংবা নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

    ইতিহাস থেকে শিক্ষাগ্রহণ কিংবা নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

    দৃশ্যকলার ব্যবহারিক অবস্থান সম্পর্কে নানা প্রশ্ন ও চিন্তা স্বয়ং শিল্পী ও সমালোচকদের মধ্যে বিদ্যমান। এখনো শিল্পকলা নিয়ে নানা মুনির নানা মত ও পথ আছে। নিজেদের মতো করে নানাবিধ মতামতকে বিবেচনায় নিয়ে শিল্পীরা কাজ করে যান। আলোড়িত দর্শকের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে সূত্র হয়ে ওঠে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি।   উপরিউক্ত অনুচ্ছেদের চমকপ্রদ উপস্থাপন  আমরা দেখতে পাই বেঙ্গল আর্টস…

  • দুই শিল্পীর দুই ভুবনের কথকতা

    দুই শিল্পীর দুই ভুবনের কথকতা

    এক সব শিল্পকর্মেই গল্প থাকে, রেখায়, রঙে আর ত্রিমাত্রিক ফর্মে যার প্রকাশ। এমন হতেই পারে যখন একই বিষয় নিয়ে কাজ করেন দুই শিল্পী তাঁরা ভিন্নভাবে বলেন তাঁদের গল্পটা। এটা যে শুধু তাঁদের ভিন্ন মিডিয়ায় আর শৈলীতে কাজ করার জন্য হয়, তেমন নয়। ভিন্নতা আসে তাঁদের ব্যক্তিত্ব ও দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যের জন্যও। ব্যক্তিত্ব এবং দৃষ্টিভঙ্গি মিলে তৈরি…